আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

পৃথিবীর কক্ষপথে খোঁজ মিলল নতুন চাঁদের!

সৌরজগতের অধিকাংশ গ্রহের একাধিক চাঁদ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর সবেধন নীলমণি কিন্তু সেই একটিই। তবে ক্ষণিকের অতিথি হয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে না কি ঢুকে পড়েছে ছোট্ট আরেকটি চাঁদ। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন এটি আসলে একটি গ্রহাণু। নাম 2020CD3। তবে আমাদের চাঁদের মতো লম্বা সময় ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে আসেনি এই চাঁদ। এর ব্যাস ১.৯ মিটার থেকে ৩.৫ মিটারের মধ্যে। অর্থাৎ কি না আকৃতি একটি গরুর চেয়ে সামান্য বড়, আর একটি জলহস্তীর চেয়ে সামান্য কিছু ছোট।
আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিকাল ইউনিয়নের মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার থেকে টেলিস্কোপ মারফত প্রথম চোখে পড়ে এই বামন চাঁদটি। সৌরজগতের সমস্ত গ্রহ, গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, নামকরণের সব দায়িত্ব রয়েছে এই আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিকাল ইউনিয়নের মাইনর প্ল্যানেট সেন্টারের ওপর।
ক্যাসপার উইজখোর্স এই আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিকাল ইউনিয়নের মাইনর প্ল্যানেট সেন্টারের এক মহাকাশবিজ্ঞানী। তিনি সম্প্রতি এই ২০২০সিডি৩ নিয়ে ট্যুইট করেছেন। ট্যুইট করে জানিয়েছেন, ক্যাটালিনা স্কাই সার্ভে দলের সদস্য ক্যাসপার এবং তাঁর অন্যান্য সহকর্মীরা প্রথম ১৫ ফেব্রুয়ারি এই গ্রহাণুটির খোঁজ পান।
ক্যাসপার জানিয়েছেন, এ ধরনের গ্রহাণু কয়েক লক্ষ রয়েছে। তবে পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকে পড়ার ঘটনা মহাকাশের ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘটল। এর আগে ২০০৬ আরএইচ১২০ নামের এক গ্রহাণু অল্প কিছু দিনের জন্য ঢুকে পড়েছিল পৃথিবীর কক্ষপথে। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণও করেছিল। সেটিও প্রথম চোখে পড়ে ক্যাটালিনা স্কাই সার্ভে-র সদস্যদেরই। ঠিক কী কারণে এই গ্রহাণু এসে পড়ল পৃথিবীর কক্ষপথে? সৃষ্টির কোনও কিছুই তো অকারণে ঘটে না!
বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের মিলিত শক্তিতে এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুমান বিগত তিন বছর ধরে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে ২০২০ সিডি৩। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১-এর মে মাসের মধ্যে ফের কক্ষপথ পালটে ফেলবে। আগামী বছরের শুরুতে পৃথিবীর আরও কাছে এসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে গ্রহাণুটির।
নাসা-র সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট অবশ্য বলেছে এটি মহাজাগতিক কিছু না-ও হতে পারে। সেখানকার বিজ্ঞানীদের অনুমান বস্তুটি সম্ভবত ১৯৬০-এর দশকের পুরনো কোনও বুস্টার রকেট।
© আলোচিত সংবাদ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.