আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

বিধবাকে ধর্ষণ, ৬০ হাজার টাকায় রফাদফা করলেন নারী কাউন্সিলর

পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আর বিষয়টি ধাঁমাচাপা দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ ধর্ষকের পক্ষ অবলম্বন করেন।

পরে নারী কাউন্সিলর তার বাড়িতে সালিশে ধর্ষককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনা দফারফা করে দেয়। তবে ধর্ষণের ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় রফাদফা করায় নারী কাউন্সিলরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ষণের শিকার ওই নারী ও এলাকাবাসী

সোমবার রাতে বন্দর উপজেলার দড়িসোনাকান্দা এলাকায় কাউন্সিলর তার নিজ বাসভবনে ধর্ষণের সালিশে বসে এ রায় ঘোষণা করেন। আর এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার পুরো এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় সালিশের বিচার ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও জরিমানার টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের সময় নির্ধারণ করে নির্যাতিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষরও রাখেন সালিসের লোকজন।

এলাকাবাসী জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দরের দড়িসোনাকান্দা এলাকায় তিন সন্তানের জননী বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে তারই বাড়িওয়ালার ছেলে খোকা মিয়া। কয়েক দফা ধর্ষণের পর রোববার রাতে বিধবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে খোকা মিয়া আবারও ধর্ষণ করে।

এ সময় তাকে বিয়ের কথা বলার পর সে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে ওই বিধবা নারী রাতেই ঘটনাটি স্থানীয় ব্যক্তিদের জানান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের শরণাপন্ন হন ধর্ষক খোকা মিয়ার মা।

বিষয়টি মীমাংসা করতে সোমবার রাতে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ তার বাস ভবনে সালিস বিচারের আয়োজন করেন। সালিসে কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ ধর্ষক খোকাকে ৬০ হাজার জরিমানা ধার্য করে রায় দেন।

নির্যাতিতা ওই নারীর অভিযোগ করেন, ওই বাড়িতে ভাড়া আসার পর থেকেই বাড়িওয়ালার ছেলে খোকা তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

পরে বিয়ের কথা বলা হলে টালবাহানা করায় শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ থাকে। রোববার রাতে খোকা কৌশলে বিধবার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলে খোকার পরিবার ছুটে যায় নারী কাউন্সিলরের কাছে।

ওই নারী আরও বলেন, সোমবার রাতে কাউন্সিলর শিউলির বাড়িতে বিচার সালিসে খোকাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একমাস পর টাকা দেয়ার কথা বলে বিচারের রায় দেন আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় সালিশে থাকা মাতুব্বরা। তবে এই সালিসে ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন এ নারী।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে খবর আসে বিধবা নারীকে বাড়িওয়ালার ছেলের বউ রাস্তায় মারধর করেছে। এমন একটা বিচার আসায় যেহেতু আমার কোনো অফিস নেই তাই রাতে আমার বাড়িতে তাদের নিয়ে বসি।

তখন মারধরের অপরাধ বাবদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বিচার সালিসে বিধবা নারী বাড়িওয়ালার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুললে আমি এই বিচার করতে পারব না বলে পঞ্চায়েতের লোকজনের ওপর ছেড়ে দেই। ওই নারীকে আমি বলি থানায় গিয়ে বিচার চাইতে। আমি কোনো ধর্ষণের বিচার করিনি। ধর্ষণের বিচার আমি কেন, আদালত ছাড়া কেউ করতে পারে না।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিধবা নারীকে ধর্ষণের ঘটনা আমাকে কেউ অবগত করেনি। ধর্ষণের কোনো ঘটনার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা যদি কেউ বিচার করে রফাদফা করে থাকে তাহলে এটা খুব অন্যায় করেছে। ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসার যোগ্য না। এটা ক্ষমারও অযোগ্য। এর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমি ওই নারীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখব এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব। ওই নারী অভিযোগ দিলে অবশ্যই অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

© আলোচিত সংবাদ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.