আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

তোফায়েল-আমু যে পার্লামেন্টে, সেখানে এমন ব্যক্তি কী করে আসে?

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে ইমেডিয়েটলি (তাৎক্ষণিক) গ্রেফতার করতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ওই সংসদ সদস্য শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনই করেননি, তিনি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

ফরিদপুরের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর সম্প্রতি স্থানীয় একটি নির্বাচনকে ঘিরে ফোনালাপ ফাঁস হয়, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়, সাখাওয়াত হোসেনের কাছে।

তিনি বলেন, ফোনালাপ এবং ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি মিডিয়ার মাধ্যমে। অবাক হয়েছি। একজন সংসদ সদস্য কী করে এমন আচরণ করতে পারেন! বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ বা এই সময়ের তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু যে পার্লামেন্টে, সেই পার্লামেন্টে এমন ব্যক্তি কী করে নির্বাচিত হয়ে আসে?

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত এক দশকে যে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, তার প্রমাণ হচ্ছে এই ফোনালাপ। দল বা ব্যক্তির চাপে নির্বাচন কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা ওই সংসদ সদস্যের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কী করার ক্ষমতা রাখে এক্ষেত্রে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই করতে পারেন। প্রথমত, এই নির্বাচনটি বাতিল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে গ্রেফতারও করার ক্ষমতা রাখে।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, নির্বাচন কমিশন তাতে আন্তরিক কিনা? কারণ হুমকি-ধামকি দিয়ে তিনি স্পষ্টত ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন এমন অপরাধ করার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, যা মানুষের অনাস্থা তৈরি করেছে। এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন পরবর্তী বিজয় সমাবেশে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.