আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

দুর্গাপূজায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

দুর্গাপূজার মণ্ডপ/মন্দিরের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি সভা (ভার্চুয়াল) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আলোকে ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

এর আগে, গত ২৬ আগস্ট দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আরও ২৬টি নির্দেশনা দিয়েছিল পরিষদ। সেই ২৬ নির্দেশনাকে বলবৎ রাখার পাশাপাশি যোগ হয়েছে আরও নতুন সাতটি নির্দেশনা। আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় সবমিলিয়ে মোট ৩৩টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

 

সেই ৩৩ দফা নির্দেশনা জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ৭ দফা নির্দেশনাগুলো হলো-

>> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই অক্টোবর মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। ইতোপূর্বে করোনার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেভাবে সীমিত পরিসরে বাসন্তী দুর্গাপূজা, অষ্টমী/বারুনি স্নান, রথযাত্রা ও জন্মাষ্টমী পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় বিধিবিধান সমুন্নত ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

>> স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪ অক্টোবরের সভার ৩ নম্বর সিদ্ধান্তের আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গাপূজা মণ্ডপ/মন্দিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা মণ্ডপ/মন্দির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবেন।

বিজ্ঞাপন

>> অঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মাধ্যম, ফেইসবুক লাইভ ও স্থানীয় ক্যাবল অপারেটরদের সহযোগিতা নেয়ার প্রচেষ্টা নিতে হবে। সরাসরি অঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্গা মণ্ডপ/মন্দিরের স্থান সংকুলান সাপেক্ষে ২৫ থেকে ৫০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সামাজিক/শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

>> সন্ধ্যারতির পর রাত ৯টার মধ্যে দুর্গাপূজার মণ্ডপ/মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। দিনের বেলায়ও জনসমাগম সীমিত রাখার প্রচেষ্টা নিতে হবে।

>> ধর্ম প্রতিটি মানুষের জীবনের অঙ্গ। তবে ধর্ম পালনের জন্য নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পাশের মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাধ্যানুযায়ী দুস্থ মানুষের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

>> এবারের দুর্গাপূজার সপ্তমী তিথিতে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে সকল পূজা মণ্ডপ/মন্দিরে প্রার্থনা করতে হবে যে, বিশ্ববাসী যেন দ্রুত করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

>> নিজের, পরিবারের ও প্রতিবেশীর সকলের জীবনের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রধিকারভিত্তিতে বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের ১২ অক্টোবর দেয়া নির্দেশনায় দুর্গাপূজায় প্রসাদ বিতরণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জনসমাগম পরিহার করতে ভোগের প্রসাদ ব্যতীত মণ্ডপ/মন্দির কর্তৃপক্ষ খিচুড়ি বা এ জাতীয় প্রসাদ বিতরণে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

২৬ আগস্ট দেয়া ২৬ দফা নির্দেশনাগুলো হলো-

>> মহালয়া অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করতে হবে (ইতোমধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে মহালয়া উদযাপিত হয়েছে)।

>> প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পূজা মন্দির/মণ্ডপ নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

>> মন্দির/পূজা মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> দর্শনার্থী, ভক্ত ও পুরোহিত সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিহিত থাকতে হবে এবং সকল দর্শনার্থীকে ন্যূনতম ৩ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

>> পূজা মন্দির/মণ্ডপে নারী ও পুরুষের পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে কার্ড/ব্যান্ডধারী অধিক সংখ্যক নিজস্ব নারী/পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।

>> সন্দেহভাজন দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা রাখতে হবে। নারী স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নারী দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির ব্যবস্থাও করতে হবে।

>> আতশবাজি ও পটকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> মন্দির/মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় আর্থিক সঙ্গতি সাপেক্ষে সিসি ক্যামেরা সংযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> ভক্তিমূলক সঙ্গীত ব্যতীত অন্য সঙ্গীত বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> উচ্চশব্দের কারণে জনসাধারণের মাঝে যাতে বিরক্তির উদ্রেক না করে এজন্য মাইক/পিএ সেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে পূজার অংশ হিসেবে ঢাক-ঢোল-কাসা এ ধরনের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করা যাবে।

>> কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> কোনো অবস্থাতেই জনসমাগমের কারণে সরকারের স্বাস্থ্য-সুরক্ষাবিধি উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

>> মণ্ডপ/মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর (জেনারেটর/হ্যাজাকলাইটসহ) ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> মন্দির/পূজা মণ্ডপে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘসময় অবস্থান না করার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

>> সন্ধ্যা আরতির পর দর্শনার্থী প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

>> সকল প্রকার আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলার আয়োজন, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

>> সম্ভব হলে বাসায়/বাড়িতে থেকে যাতে ভক্তরা অঞ্জলি দিতে পারে সেজন্য ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে স্বল্পসংখ্যক ভক্তকে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব রেখে একাধিকবার অঞ্জলি প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> যেসব ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে দুর্গাপূজা করা হবে, সে সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে পূজা করা যাবে কি না- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

>> পূজায় দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর মন্দির/মণ্ডপ প্রাঙ্গণে দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে।

>> পূজাকালীন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে মন্দির/মণ্ডপ কেন্দ্রীক শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে।

>> মন্দির/মণ্ডপ কেন্দ্রিক ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচন করতে হবে এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় সরবরাহ করতে হবে।

>> কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।

>> অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো দুর্ঘটনার সংবাদ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানায় ও কেন্দ্রীয় কমিটির মনিটরিং সেলে জানাতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ‘৯৯৯’ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

>> প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।

>> বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সকল স্তরের শাখা কমিটি সমূহ স্ব-স্ব আওতাধীন সকল মন্দির/মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে এবং উপরের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিষদের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, গত বছর সারাদেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। চলতি বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২১৩টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এক হাজার ১৮৫টি মণ্ডপ কম হচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ায় পিতৃপক্ষের সমাপ্তিতে দেবীপক্ষের শুভসূচনা হলেও এ বছরের আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ হওয়ায় দেবীপক্ষে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে এক মাস পাঁচ দিন পর হেমন্তের কার্তিকে (২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার) ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা। ২৩ অক্টোবর সপ্তমী, ২৪ অক্টোবর অষ্টমী, ২৫ অক্টোবর নবমী শেষে ২৬ অক্টোবর (সোমবার) দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.