আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির ফ্যাক্টরি ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ,মেশিনারিজ গোপনে বিক্রি

স্বপ্ন রোজ: নানান কারসাজিতে জর্জরিত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ।২০১৪ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ।তালিকাভুক্তির শুরুতেই কোম্পানিটিতে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ৫ আগস্ট ২০১৭ – তে চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউরো দেশ কনজ্যুমার প্রোডাক্টসকে।

ফ্যাক্টরির ভিতরে জং ধরে গেছে
ফ্যাক্টরির ভিতরে জং ধরে গেছে

 

জানা যায়- বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানিটির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে ।এরইমধ্যে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির ফ্যাক্টরি ২০১৯ সাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কোম্পানিটির মালিকপক্ষ মেশিনারিজ গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির ফ্যাক্টরি বন্ধ

 

স্থানীয়দের তথ্যমতে- সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে জেনারেটর ছাড়া অন্য আর কিছু নেই। কোম্পানিটির ভাড়াকৃত গোডাউন গুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু বন্ধ নয়,গোপনে কোম্পানিটির সমস্ত মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংস বিক্রি করা হয়েছে।

দেয়াল টপকে ফ্যাক্টরি দেখার চেষ্টা

 

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির কর্পোরেট অফিস ধানমন্ডিতে প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে দেখা যায় অফিসে পিয়ন ছাড়া আর কেউ নেই।

সুহৃদের কর্পোরেট অফিস
সুহৃদের কর্পোরেট অফিস

 

কোম্পানি বন্ধ থাকার বিষয়ে কোম্পানিটির ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্ট এবং ফিনান্স ডিভিশনের শাকিল আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে-উক্ত নিউজ করলে প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় যা প্রতিবেদক এর কাছে রেকর্ড আকারে সংরক্ষণ করা আছে।

ফ্যাক্টরির ভিতরে বিভিন্ন চারা গাছের জন্ম হচ্ছে

 

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির অডিট ফার্ম এ হক এন্ড কোং এর সাথে প্রতিবেদক মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এবং সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রির অডিট কি দেখে করেছেন সে ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিবেদক এর কল কেটে দেন। পরবর্তীতে অনেকবার কল করলেও ওপাশ থেকে কেউ কল রিসিভ করেননি।

২০১৮-২০১৯ annual report এর তথ্য অনুযায়ী eps-১.৩৪ যা ২০১৭-২০১৮ তে মাত্র ০.৩৪ পয়সা ছিল।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মোট ব্যাংক লোনের পরিমাণ-১০৯,৭৩১,০৯৮ টাকা
Iong term loan-৬১,৩২৭,৯১৮ টাকা
Current portion of long term loan-১৭,৬৯১,৩০০ টাকা
Short term loan-৩০,৭১১,৮৮০ টাকা।
অন্যদিকে inventories -১৩,০৪২,২৫৪ টাকা,
Trade receivables-২৪৩,১৫৬,২৪২ টাকা,
Advance, deposit & pre-payments-২৪৬,৪৩৯,৫০২ টাকা।

আলোচিত-সমালোচিত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ শে জুন ২০২০ এ কভিড-১৯ এর অজুহাতে ফ্যাক্টরি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

পল্লী বিদ্যুৎ এর তথ্যমতেঃ সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ডিসেম্বর/১৭ মাসের বিদ্যুৎ বিল বেশি থাকায় মিটার পরিবর্তনের আবেদন।সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মিটার পরীক্ষা ও বিডিং পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাকালে মিটার ও রিডিং সঠিক পাওয়া যায় এবং উপস্থিত প্রতিনিধি একমত পােষণ করেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের এমডি এর সহিত টেলিফোন আলোচনা করে অবহিত করা হয় এবং বিল পরিশোধ মিটার পরীক্ষা ফি প্রদান সাপেক্ষে মিটার পরিবর্তন করতে বলা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা ও মিটার পরীক্ষা ফি জমা না দেয়ার কারণে মিটার পরিবর্তন হয়নি।

গ্রাহক কর্তৃক ০২ মাসের সময় চেয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য আবেদন । ২০/০১/২০১৮ খ্রিঃ ও ২৪/০১/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে গ্রাহকের পত্রের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য পত্র প্রেরণ। অফিস কর্তৃক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নর জন্য পত্র প্রেরণ।

ডিসেম্বর ১৭ মাসের বিল বেশি করা হয় মর্মে অভিযোগ এনে বিল স্থগিত করে লাইনটি বিচ্ছিন্ন না করার জন্য উকিল নোটিশ প্রদান করে হাইকোর্টে রিট করেছেন। রীট পিটিশন নং-৩৮৭২/২০১৮, তারিখঃ-২৫/০৩/২০১৮ খ্রিঃ। রিট পিটিশনে উল্লেখ ডিসেম্বর/১৭ মাসের বিলের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইন বিচ্ছিন্ন থেকে বিরত থাকতে হবে।

বর্ণিত রিট পিটিশন (নং-৩৮৭২/২০১৮) এর বিপরীতে বিইআরসি এর স্মারক নং-২৮.০১.০০০০.০১৮.৩১, ০১৪,১৭, ৩৬৬১; তারিখঃ ০৭/০৬/২০১৮ খ্রিঃ মোতাবেক “সুহৃদ ইন্ডাঃ লিঃ এর অনুকূলে ইস্যুকৃত ডিসেম্বর/১৭ খ্রিঃ মাসের বিলটি সঠিক রয়েছে মর্মে | প্রতীয়মান হয়েছে মর্মে বিইআরসি রায় দেন এবং অত্র পবিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) কর্তৃক জারিকৃত ডিসেম্বর/১৭ খ্রিঃ মাসের বিল পরিশোধের জন্য সুহৃদ ইন্ডাঃ লিঃ কে নির্দেশ প্রদান করেন।

ডিসেম্বর/১৭, ফেব্রুয়ারি/১৮, মার্চ ১৮ ও এপ্রিল/১৮ মাসের মোট ৩৩,৪০,৩১৮.০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা ও বিইআরসি এর রায় না মানার কারণে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। উল্লেখ্য যে, বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ (২০১৮ সনের ০৭ নং আইন)এর চতুর্থ অধ্যায়ের ক্রম ১৮ নং ধারা (১) এ উল্লেখিত কোন গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে ক্রম ০২ এর উপধারা (১) এর অধীনে কোন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে আদালত লাইসেন্সিকে উক্ত গ্রাহকের বিদ্যুৎ পূনঃসংযোগ করবার জন্য আদেশ দিতে পারবে না মর্মে উল্লেখিত রয়েছে।উল্লেখ্য, অনেক পূর্বে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন হলেও অফিসকে না জানিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিরাট অংকের বিদ্যুৎ বকেয়া রেখেছেন।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ কিস্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে পূনঃসংযোগ গ্রহণের জন্য বাপবিবো এর চেয়ারম্যান মহাদয় বরাবর কয়েকবার আবেদন করেন। যার তারিখ যথাক্রমে ২৩/০৯/২০১৮ খ্রিঃ, ২৯/০৯/২০১৮, ২৫/১১/২০১৮ খ্রিঃ ও ১৫/১২/২০১৮ খ্রিঃ। তবে উক্ত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বকেয়া পরিশোধ করে পূনঃ সংযােগ গ্রহণের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। তবে ছয় মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মােট ৪৪,২৫,৩৯৬.০০ টাকার মধ্যে শুধুমাত্র জুন/২০১৮ খ্রিঃ মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩,০২,৫৪৬.০০ টাকা গত ০৭/০৪/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে ব্যাংকে পরিশোধ করেন। বর্তমানে মোট বকেয়ার পরিমান ৪১,২২,৮৫০.০০ টাকা।

এদিকে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশ মোতাবেক ১৫ দিনের মধ্যে ৭,০০,০০০.০০ (সাত লক্ষ) টাকা পরিশোধ করার রায় থাকলেও কোন বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ০৯/০৭/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ পূবক পূনঃসংযোগ গ্রহণের জন্য পত্র প্রদান করা হয়।

২৪/০৭/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে ৭,৪৯,২৭১.০০ টাকা পরিশোধ করায় মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ০৮/০৮/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে পূনঃসংযোগ প্রদান করা হয়। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক ১৬/০৬/২০১৯ খ্রিঃ
তারিখের পরবর্তী ২ মাসের মধ্যে সমুদয় বকেয়া পরিশোধ করার কথা উল্লেখ থাকলে সমুদয় বকেয়া পরিশোধ না করায়।২১/০৮/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়।আইনগত মতামতের প্রেক্ষিতে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৭/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে পূনরায় সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তৎপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় এবং সমুদয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বকেয়ার অর্থ আদায়ের স্বার্থে ১৭/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে সিআর মামলা করা হয়। সিআর মামলার প্রেক্ষিতে ২০/১০/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে মহামান্য আদালত কর্তৃক গ্রাহকের বিরুদ্ধে সমন জারী করা হয়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এই কোম্পানিটির বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বারবার বন্ধ এবং চালু হয়েছে।

১৭/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখের পর থেকে কোম্পানিটি পুরোদমে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ৩০ শে জুন ২০২০ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তথ্যমতে জানা গেছে কভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২৬ শে মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়।

জানা যায়-কোম্পানিটি শুধুমাত্র এজিএম করে এজিএম পার্টি দিয়ে। আর কারসাজির মাধ্যমে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে-বেনামে শেয়ারগুলো কেনাবেচা চলছে। একদিকে মোটা অংকের ব্যাংক লোন ও বিদ্যুৎ বিল অন্যদিকে কারখানার মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ বিক্রি। কোন পথে হাঁটছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক জানান – এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ইস্যু ম্যানেজার, অডিটর, এবং পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আবারো ভয়াভহ পতনের শিকার হবে পুঁজিবাজার।

স্বপ্ন রোজ

 

উল্লেখ্য ,কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

আলোচিত সংবাদ-২২-১০-২০২০ ইং

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.