আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

পালানোর সুযোগও পাচ্ছে না আর্মেনিয়ার সেনারা

৩০ বছর ধরে আর্মেনিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড উদ্ধারে অভিযান জোরদার করেছে আজারবাইজান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯৯১ সাল থেকে কারাবাখ বা নার্গোনো-কারাবাখ দখল করে রেখেছে আর্মেনিয়া। কারাবাখ পুনরুদ্ধারে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী অভিযান জোরদার করেছে বলে জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ এবং ২২ অক্টোবর আঘদেরে-আঘদাম, ফিজুলি-জাবরাইল এবং জানগিলান-গুবাদিল সেকশনে অভিযানের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। এইসব এলাকার বেশ কয়েটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী নিজেদের অস্ত্র-সরঞ্জামাদি রেখে পালিয়ে গেছে।
খোজাবেন্দে থাকা আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ১৫৫ আর্টিলারি রেজিমেন্টের ডি-২০ ব্যাটারির বেশ কয়েক সদস্য আহত হয়েছে। রাস্তা-ঘাট বন্ধ এবং গাড়ি না থাকায় তারা সেখান থেকে পালতেও পারছে না বলে জানায় আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজারবাইজানের আঘদেরে সেকশনে নিয়োজিত ৫ম রাইফেল রেজিমেন্টের তীব্র গোলা হামলায় হাদরুদ বসতি থেকে আর্মেনিয়ার স্বেচ্ছাসেবীরা পালিয়েছে। তাদের অনেকে হতাহত হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযানের সময় আজারবাইজানের থার্ড ব্যাটালিয়ন রেজিমেন্টের কমান্ডার নিখোঁজ হয়েছেন। ব্যাটালিয়ন প্রধান নিহত হন। অভিযানের আর্মেনিয়ার সেনবাহিনীর সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে বলেও জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আর্মেনিয়ার ৫৪৩ রেজিমেন্টের কমান্ডার, তার ডেপুটি, ব্যাটালিয়ান কমান্ডার, ডেপুটি আহত হয়েছে। আরেক কমান্ডার নিহত হয়েছে বলে  বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। পুরো পরিস্থিতি আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে বলে জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
নতুন সংঘাত
২৭ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের বসতি এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় আর্মেনিয়া। দুই দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে একমত হয় দু’পক্ষ। প্রতিবারই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘণ করে আর্মেনিয়া।
আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর গানজায় দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আর্মেনিয়া। নারী, শিশুসহ নিহত হয়ে অন্তত ৩০ জন। আহত হয়ে বেশ কয়েকজন। ১৫ অক্টোবর আজারবাইজানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তারতারের একটি কবরস্থানে হামলা চালায় আর্মেনিয়া। এতে ৪ জন নিহত হয়। আহত হয় আরো ৪ জন।
গেলো ১০ দিনে আপার কারাবাখ বা নার্গোনো-কারাবাখে দু’বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে আর্মেনিয়া। কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের স্বীকৃত ভূখণ্ড।
আপার কারাবাখ সংঘাত
১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আজারবাইজানের ভূখণ্ড নার্গোনো-কারাবাখ দখল করে নেয়া আর্মেনিয়া। তারপর থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
গেলো ৩০ বছর ধরে আজারবাইজানের ২০ শতাংশ ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে আর্মেনিয়া।
১৯৯২ সালে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ওএসসিই মিনস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে একমত হয় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া। কিন্তু সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।
জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা এবং অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার জন্য আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি ইয়েরেভান।
আজারবাইজানের আত্মরক্ষা এবং নার্গোনো কারাবাখ থেকে আর্মেনিয়ার উচ্ছেদ দাবি করে বাকুকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলো যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.