আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

এস এস স্টিলের চেয়ারম্যানের নামে-বেনামে প্রায় ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ প্লেসমেন্ট শেয়ার

স্বপ্ন রোজ: নিত্যনতুন কারসাজিতে মেতেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকরা। কারসাজি শীর্ষে এমনই এক কোম্পানির নাম এস এস স্টিল। এস এস স্টিলের চেয়ারম্যানের নামে-বেনামে রয়েছে প্রায় ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ প্লেসমেন্ট শেয়ার।

এস এস স্টিলের পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। ২১০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন ২৮ জুন ২০১৬ তারিখে যোগ হয়েছে। ২১০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য যে IM(information memorandum) তৈরী করা হয়েছিল সে তথ্য অনুযায়ী ২১০ কোটি টাকা থেকে ১৭০ কোটি টাকা ব্যাংক লোন পরিশোধ করার কথা ছিল। ৩০/০৯/২০১৫ তারিখে Total Equity & Liabilities ২৯৮.৫৪ কোটি টাকা এবং ৩০/০৬/২০১৬ তারিখে তা ৫০২.২০ কোটি টাকা। যা IM অনুযায়ী ব্যাংক লোন পরিশোধ হলে ৩০/০৬/২০১৬ তারিখে Total Equity & Liabilities ৫০২.২০ কোটি টাকা থেকে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা কমে ৩৫২.২০ কোটি টাকা হতো।

ব্যাংক এশিয়ার ১১২ কোটি টাকার লোনের প্রমাণপত্র

 

এদিকে ২১০ কোটি টাকার মধ্যে অধিকাংশ প্লেসমেন্ট শেয়ার ভুয়া। যার সিংহ ভাগ জনাব জাভেদ অপগেনহেপেন ও তার সহধর্মিণী নাবিহা ইয়াসমিন সহ তাদের কিছু অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে আছে। এস এস স্টিলের IM (Information Memorandum) এর তথ্য অনুযায়ী MTB (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ) এর লোন পরিশোধের কথা ছিল। ৮/০৬/২০১৬ ইং ১১২ কোটি টাকা ব্যাংক এশিয়া থেকে লোন টেকওভার হয় MTB তে (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) । MTB এর লোন পরিশোধের ১১২ কোটি টাকার pay-order দেখিয়ে তার সমপরিমাণের প্লেসমেন্ট শেয়ার জনাব জাভেদ অপগেনহেপেন ও তার সহধর্মিণী নাবিহা ইয়াসমিনের নামে নেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া জনাব জাভেদ অপগেনহেপেন এর অস্তিত্বহীন কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে আছে প্রায় -১২ কোটি ৬০ লাখ ৫৭ হাজার ৯ শ প্লেসমেন্ট শেয়ার। যার বর্তমান মূল্য- ১৭১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা। এরমধ্যে nj holding ltd এর ৫,০০০,০০০ প্লেসমেন্ট শেয়ার,al dewan technical services llc এর ৮,৫৪১,২১২ প্লেসমেন্ট শেয়ার,shorecap holding ltd এর ৯,৯৯১,০০০ প্লেসমেন্ট শেয়ার,a.j corporation ltd এর ৫,০০০,০০০ প্লেসমেন্ট শেয়ার, AAJ Ltd এর ৫,০০০ প্লেসমেন্ট শেয়ার এবংfortune wealth management ltd এর ৫,০০০,০০০ প্লেসমেন্ট শেয়ার।

উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে rjsc এর তথ্য অনুযায়ী ৫ টি কোম্পানি এস এস স্টিলের চেয়ারম্যান জাবেদ অপগেনহেপেন ও তার পরিবারের।ছয় নাম্বার কোম্পানিটি rjsc তথ্য অনুযায়ী জনাব সায়াদুর রহমান যিনি হলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টর, জনাব মোঃ সায়াদুর রহমান ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মিঃ রহমান ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালক, জনাব মোঃ সায়াদুর রহমান এর fortune wealth management কোম্পানিটির কোন অস্তিত্ব নেই এবং fortune wealth management ltd এ যে পরিমাণের প্লেসমেন্ট শেয়ার দেখানো হচ্ছে সেখানে কোন টাকার বিনিময়ে হয়নি,ধারণা করা হচ্ছে দুর্বল এস এস স্টিল কোম্পানিটিকে তদবির করে শেয়ারবাজারে এনে দেওয়ার সহযোগিতা করার কারণেই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্লেসমেন্ট শেয়ার।উক্ত ৬টি কোম্পানিগুলোর একটি কোম্পানির অস্তিত্বও এই শহরে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।

rjsc এর তথ্য অনুযায়ী এস এস স্টিলের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান shorecap holding ltd এর রেজিস্ট্রেশন ২০১৯ সালে অথচ এস এস স্টিলের প্রসপেক্টাস এর ২৭ পৃ: তথ্য অনুযায়ী প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর সর্বশেষ কার্যক্রম ছিল ২০১৬ সালে কিন্তু shorecap holding ltd এর রেজিস্ট্রেশন ২০১৯ সালে যে প্রতিষ্ঠানের জন্মই হয়নি ২০১৬ সালে সে প্রতিষ্ঠান নামে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার।

অন্যদিকে pearl trade center এ অবস্থিত এসএস স্টিলের কর্পোরেট অফিসের দলিল নং-৫৪৭৪ এর প্রসপেক্টাসে দলিল মূল্য কত?৫৫০০ বর্গফুট অফিসের প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা দলিল মুল্য-২৪,২০,৩০,৫০০/= চবিশ কোটি বিশ লাখ ত্রিশ হাজার পাঁচশ টাকা।দলিল নং -৫৪৭৪ এর প্রকৃত মূল্য ১,০৩,৬৮,০০০/= এক কোটি তিন লক্ষ আটষট্টি হাজার টাকা। প্রসপেক্টাসে দলিলের প্রকৃত মূল্য থেকে ২০ গুণ বেশি(২৪,২০,৩০,৫০০-১,০৩,৬৮,০০০= ২৩ কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ জনাব জাভেদ অপগ্যানহ্যাপেন তেইশ কোটি ষোল লাখ বাসট্টি হাজার পাঁচশ টাকা বেশি দেখিয়েছেন।

 

এস এস স্টিলের কর্পোরেট অফিসের দলিলের নকল

 

তাছাড়া এস এস স্টিল ২০১৮-২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন (Annual Report) এর তথ্য অনুযায়ী ১৪.৫০ কোটি টাকার ভুয়া এফ ডি আর (fixed deposit receipt) দেখিয়েছে ।বার্ষিক প্রতিবেদন এর ৫৫ পৃ: note ৯.০২ এর তথ্যনুযায়ী এফ ডি আর এ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এর ২.৫০ কোটি টাকা এবং ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এর ১২ কোটি টাকা ভুয়া এফ ডি আর দেখানো হয়েছে।

স্থায়ী বিনিয়োগ: প্রসপেক্টাসে তথ্য ও আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায় কোম্পানি কয়েক বছর ধরে এস এস স্টিল কোম্পানিটি স্থায়ী বিনিয়োগ দেখিয়ে আসছে। বিল্ডিং ও সিভিল খাতে কয়েক বছর ধরেই চলছে বিনিয়োগ। প্রতিবছরের অবাক করা বিনিয়োগ গুলো যে কাউকে ভাবতে বাধ্য করাবে , আসলে কি বিনিয়োগ হচ্ছে নাকি কারসাজির আর্থিক প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ সেই বিল্ডিং ও সিভিল খাত।

২০১৮-২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন এর তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী বিনিয়োগ প্রায় ১৪ কোটি টাকার ভিতর বিল্ডিং ও সিভিল খাতে হয়েছে ১২.৩৩ কোটি টাকা।নতুন করে কত বর্গফুট বিল্ডিং তৈরি হলো তা এখানে বলা নেই এক বছরে ১২.৩৩ কোটি টাকা ওই খাতে খরচ সম্ভব কিনা তা ভেবে দেখার বিষয়। এস এস স্টিল এর ২০১৮-২০১৯ এর বার্ষিক প্রতিবেদন কারসাজি করা। যা বিনিয়োগকারীদেরকে মারাত্নক ভাবে প্রভাবিত করছে এবং অচিরেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারীরা ।

আলোচিত সংবাদ /-২৫-১০-২০২০ ইং

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.