আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমএলএম কোম্পানি

১ লাখ টাকায় দিনে লাভ ১৩শ টাকা। গ্রাহক বাগিয়ে আনলে আরো ১০পার্সেন্ট। যত গ্রাহক তত লাভ। তারপর লা পাত্তা। এমন হঠকারী বিজ্ঞাপনের আড়ালে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় মানুষ ঠকাচ্ছে সোপান নামক এমএলএম কোম্পানি। ব্যাঙ্গের ছাতার মত রাজধানীতে এমন শতাধিক কোম্পানি এমএলএম ব্যবসার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। গত ৫ বছরে ২০টির বেশী কোম্পানি ধরা পড়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে।

২০১২ সালে ডেসটিনিসহ বড় এমএলএম কোম্পানিগুলোকে সরকার আইনের আওতায় আনার পর, ধরণ পাল্টেছে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কোম্পানিগুলো। ই কমার্স বা ই বিজনেস নামে তারা প্রতারণা করে যাচ্ছে গ্রাহকের সঙ্গে। গ্রাহকের লাখ টাকায় দিনে লাভ ১৩শ টাকা। এরপর আরো গ্রাহক বাগিয়ে আনলে ১০ পার্সেন্ট করে লাভ। যত গ্রাহক তত লাভ। কে ছাড়ে এই সুযোগ। হুহু করে তিন মাসেই ১৪শ ২৭ গ্রাহক।

এই সময়ে কিছু টাকা লভ্যাংশ দিলেও এক প্রলোভনেই হাতের মুঠোয় প্রায় ১৫ কোটি। তা নিয়ে রাজধানীর বারিধারায় লাপাত্তা হতে বসেছিল সোপান নামে এমএলএম কোম্পানিটি।গ্রাহকের অভিযোগে কোম্পানির তিনসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় নগদ ষাট হাজার টাকা। মোবাইল ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি।

একইভাবে লাখে ১০ হাজার টাকা লভ্যাংশের টোপে প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহকের আড়াইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্লোবাল গেইন নামক একটি প্রতিষ্ঠান। ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসার মোড়কে বাড্ডা এলাকায় গোপনে এমন নেটওয়ার্ক মাকেটিং এমএলএম ব্যবসা করে আসছিলো কোম্পানিটি।

এ বছরেরই আগস্টে র্যা ব-৩ এক অভিযানে কোম্পানির কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
২০০০ সালের পর প্রথম দেশে এমএলএম ব্যবসা চালু করে ডেসটিনিসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি।

এরপর দেশজুড়ে কয়েকলাখ মানুষের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ২০১২ সালে ডেসটিনিকে বিচারের আওতায় আনা হয়। এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে জারি হয় আইন। বর্তমানে দেশে লাইসেন্স বা ব্যবসাটির কোনো অনুমোদন না থাকলেও আড়ালে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে ২শর বেশি এমএলএম কোম্পানি।

যাদের প্রধান টার্গেট অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, প্রবাসী অথবা টাকা আছে এমন সাধারণ মানুষ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.