আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়াকেও টপকে গেছে বাংলাদেশ

শুধু ভারত নয়, সামাজিক রূপান্তরে দক্ষিণ এশিয়াকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যে ধারণা দিয়েছে তা যথার্থ। তবে এতে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের মানদণ্ড নয়।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। ভারতের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সে প্রসঙ্গেই জাগো নিউজের পক্ষ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয় এই বিশ্লেষকের কাছে।

আইএমএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। আইএমএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ৪ শতাংশ বেড়ে হতে পারে এক হাজার ৮৮৮ ডলার। সেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হতে পারে এক হাজার ৮৭৭ ডলার। অর্থাৎ এই প্রথম মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের থেকে ১১ ডলার এগিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘‘নোবেলবিজয়ী প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন আজ থেকে ১১ বছর আগে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ভারত থেকে অর্ধেকের কম হলেও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ ও ভারত থেকে অনেক ভালো।’ মূলত বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে বলেই সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের এমন অগ্রগতি বলে অমর্ত্য সেন উল্লেখ করেছেন।’’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘‘আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে ভারতের জিডিপি হবে ঋণাত্মক। তবে পরের বছর ভারতের জিডিপি বাংলাদেশ থেকে ভালো হবে। আবার ২০২৫ সালে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। আরেকটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ভারতের মানুষের থেকে বেশি হবে। এগুলো অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সূচক। তবে আত্মতুষ্টি প্রকাশের সুযোগ নেই। আর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিয়ে ভারতের ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা যে খবর প্রকাশ করেছে তা দেশটির গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব বলে মনে করি।’’

তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি আর সুশাসনের কারণেই আমরা লক্ষ্যে যেতে পারছি না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে সরকারের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ। আর এ দুটি খাতেই দুর্নীতি বেশি। সুশাসনের অভাব সর্বত্রই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ যেভাবে মোকাবিলা করেছেন, আমরা কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সে তাগিদ দেখেছি? একজন গাড়ির চালক শত কোটি টাকার মালিক। এই চিত্র তো গোটা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে।’’

‘‘আর আমাদের অতি আবেগ কমাতে হবে। সারা পৃথিবীতেই জিডিপি ঋণাত্মক। সেখানে আমাদের অর্থমন্ত্রী বলছেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এটি কোনোভাবেই সম্ভব না। কল্পনার জগৎ থেকে সরে এসে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করুন। তাহলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে না।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.