আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

মিলিটারি গ্রেডের ইসরাইলি উজি পিস্তল উদ্ধার

পেশায় গাড়িচালক। কিন্তু আছে অস্ত্রের লাইসেন্স। তাও আবার মিলিটারি গ্রেডের ইসরাইলি উজি পিস্তল। সম্প্রতি বিপুল মাদকসহ মোহাম্মদপুর থেকে মিনাল শরীফকে গ্রেপ্তারের পর অস্ত্রের বিষয়টি আলোচনায় আসে। আইনের ফাঁক গলে আধুনিক মারনাস্ত্র কি করে আমদানি হল, সেই প্রশ্নও উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশ ভেরিফিকশনে অস্বচ্ছতা, প্রক্রিয়াগত আর আইনি কাঠামোর দুর্বলতাই বেহাতে অস্ত্র যাওযার অন্যতম কারণ।

অস্ত্রের গায়ে খোদাই করা লেখা, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান উজির তৈরি পিস্তল। ইন্টারনেট বলছে, এটি .২২ বোরের নন প্রোহিবিটেড বা কম ক্যালিবারের অস্ত্র হলেও, আধা স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ড মেশিনগান। মারণক্ষমতাও অনেক। দুটি ম্যাগজিনের ধারণ ক্ষমতা ২০ রাউন্ড। যা সশস্ত্রবাহিনীতে থাকা ক্ষুদ্রাস্ত্রের চেয়ে ৫ রাউন্ড বেশি।

এ নিয়ে ডিবি’র অনুরোধে কয়েকটি মতামত দিয়েছে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞদল। যেখানে অস্ত্রটিকে মিলিটারি গ্রেডের উল্লেখ করে, আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

তবে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইছে, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। যদিও আমদানিতে উজি রাইফেল লিখে এনেছেন পিস্তল। আবার খোদ ইসরাইলি অস্ত্র আনলেও, জার্মান রেপ্লিকা বলে দাবি করছেন।

দু’পক্ষের কথায় উঠে আসে আইনের দুর্বলতা। ১৮৭৮ সালের আইনকে ঘষামাজা করলেও পাল্টানো হয়নি। এই আইনে শুধু মাত্র অস্ত্রের ক্যালিবার উল্লেখ করা আছে। কিন্তু কম ক্যালিবারেও আধুনিক মারনাস্ত্র তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে কিছু বলা নেই।

আমদানি করা অস্ত্র যারা খালাসের অনুমোদন দেন, সেই কাস্টমসে নেই কোন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ।

যেই অস্ত্র নিয়ে এতো আলোচনা সেই অস্ত্রের মালিক মিনাল শরীফ। পেশায় গাড়ি চালক। বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ সম্প্রতি তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তখনই উদ্ধার হয় উজি পিস্তল। প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন?

অনুসন্ধান বলছে, তার লাইসেন্স ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের ইস্যু করা। বাড়িও এই জেলার ভাঙ্গায়।

নীতিমালা বলছে, বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে, একজন ব্যক্তি বার্ষিক কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার করদাতা হবেন। থাকতে হবে জীবনাশের হুমকি। অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকা যাবে না। যা নিশ্চিতে দফায় দফায় পুলিশ ভেরিফিকেশন ও নিয়মিত তদারকি করার কথা। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ছাড়পত্র দিলে লাইসেন্স দিবে জেলা প্রশাসন।

কিন্তু গাড়িচালক থেকে মাদক ব্যবসায়ী মিনাল কোন নিয়মে অস্ত্রের লাইসেন্স পেল, তা নিয়ে জেলা প্রশাসক মুখ খুলতে নারাজ। আর পুলিশ তো লাইসেন্স থাকার কথাই অস্বীকার করছে। গোটা প্রক্রিয়াটাই দেখভালের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের। এসব অনিয়ম নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.