আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

খুন হওয়া কিশোরী জীবিত উদ্ধার : ওসি-তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেফতার তিন আসামির জামিন শুনানিকালে বিচারক কাওসার আলম এ আদেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের স্বীকারোক্তির পর মৃত কিশোরীর জীবিত ফেরত আসার ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেফতার তিন আসামির জামিন শুনানিকালে বিচারক কাওসার আলম এ আদেশ দেন।

গ্রেফতার আবদুল্লাহ ও রকিবের আইনজীবী রোকনউদ্দিন বলেন, ধর্ষণ শেষে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর কিশোরী জীবিত ফেরাত আসে। আর সেই মামলায় কারাগারে থাকা তিন আসামির জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আগামী ৩১ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আর শুনানির দিন ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই কিশোরী কীভাবে মৃত হলো এবং কীভাবে জীবিত ফেরত এলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার এক স্কুলছাত্রী কিশোরী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। একমাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। ওইদিনই তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)।

গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। সে নিজে তার মাকে একটি ফোন ফ্যাক্সের দোকান থেকে কল করে চার হাজার টাকা চায়! বাবা-মা এতে অবাক হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

পরে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তারা থানায় হাজির হন। তাদের সঙ্গে ছিল কিশোরীর স্বামী ইব্রাহিম। তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.