আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

অধ্যাপক মোর্শেদের সঙ্গে দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ

বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে লেখার জন্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সঙ্গে দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে আদালতে।

গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে লিখিত অভিযোগটি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সঙ্গে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ আদালতের পেশকার রকিব চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।  সেক্ষেত্রে পিবিআই তদন্ত করে যদি ঘটনার সত্যতা পায় এবং বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টির যথার্থতা উপলব্ধি করে তবে তারাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবেন।”

বঙ্গবন্ধুর অবমাননা: ঢাবির শিক্ষকতা ছাড়তেই হচ্ছে মোর্শেদকেআর্জিতে বলা হয়েছে, মামলার আসামি অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ২০১৬ সালের ৩০ মে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে এবং ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে নিবন্ধন ছাপেন। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তথ্য বিকৃত করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট ও অবমাননাকর বক্তব্য লেখেন, যা পরবর্তীতে অপর আসামি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদ যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশ ও প্রচার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নিবন্ধে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান লেখেন, “আওয়ামী নেতাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে গেলেন এ দেশবাসীকে মৃত্যুফাঁদে ফেলে দিয়ে নেতৃত্বহীন অবস্থায়। যাকে ঘিরে এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখত সেই শেখ মুজিবুর রহমানও। জাতির এ সংকটকালীন মুহূর্তে ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত এই টগবগে যুবকের কণ্ঠে ২৬ মার্চ রাতে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। স্বাধীনতার ডাক এসেছিল শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার আগে নয়। আমার জানা মতে, তিনি কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।”

নিবন্ধের আরেক জায়গায় স্বাধীনতার পরের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোর্শেদ হাসান খান লিখেছেন, “দেশবাসী দেখলো শেখ মুজিব একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা চালু করে নিজেই যেন দাঁড়িয়ে গেলেন নিজের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ১৯৭২ থেকে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত দেশে বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না।”

একইভাবে ২০১৬ সালের ৩০ মে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে এক লেখায়ও অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান একই ধরনের বক্তব্য দেন।

আসামিদের এ রূপ লেখা প্রকাশ ও প্রচার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ, ইতিহাস বিকৃতি ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অংশ বলে বাদী মনে করেন।

এত পরে কেন অভিযোগটি আনা হল, সে বিষয়ে আরজিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হযেছে তা জানাতে পারেননি আদালতের ওই কর্মচারী। এ বিষয়ে বাদীর সঙ্গেও  যোগাযোগ করা যায়নি।

এদিকে এই লেখার কারণে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুহিব / ১১-০৯-২০২০/  আলোচিত সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.