আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

অভিযোগপত্রে ‘মৃত’ আসামি হাজিরা দিচ্ছেন নিয়মিত

চট্টগ্রামে মারধরের মামলার এক আসামিকে পুলিশ ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ দেখিয়ে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে, যিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।

বর্তমানে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ থানার এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র রায়কে এরইমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে সিএমপির নতুন কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানিয়েছেন।

এদিকে মো. জয়নাল নামের ওই আসামির জীবিত থাকা এবং মামলায় হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত মহানগর পিপি আবিদ হোসেন জানিয়েছেন।

 

তিনি আলোচিত সংবাদ  ডটকমকে বলেন, “মামলার বাদী অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া জয়নালকে অন্তর্ভুক্ত করতে আদালতে আবেদন করেছেন। আগামী ১৩ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিনে আদালত হয়ত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন।”

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, “পুলিশ কীভাবে অভিযোগপত্রে জীবিত আসামিকে মৃত দেখাল সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।”

এই মামলার ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই বছর আগে। নাতিকে যৌতুকের জন্য মারধরের প্রতিবাদ করায় তাকেও মারধর করা হয় জানিয়ে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগ করেন নগরীর বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব শাহ আলম। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত বায়েজিদ থানায় তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেয়।

মামলায় শাহ আলম অভিযোগ করেন, মারধর করায় থানায় নাতি জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এর জের ধরে তার বাসায় হামলা চালিয়ে আসামিরা তাকে মারধর করেন। এই মামলায় নাতি জামাই মো. নাসিমসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

প্রায় এক বছর ধরে তদন্ত শেষে এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র রায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি জয়নালকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তিনি অভিযোগপত্রে লেখেন, মো. জয়নাল (১৯), পিতা: আবদুল জলিল পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

অভিযোগপত্রে মৃত্যুর কাগজপত্র জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও কখন, কীভাবে এবং কোথায় বন্দুকযুদ্ধে জয়নাল মারা গেছেন তা লেখা হয়নি।

দীর্ঘদিন বিষয়টি অগোচরে থাকলেও করোনাভাইরাসজনিত কারণে বিরতির পর সম্প্রতি আদালতের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে আসামি জয়নালের হাজিরা দিতে আসাটা অনেকের নজরে আসে।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্করকে বরখাস্ত করা হয়। নগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উত্তর জোনের উপ-কমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন সদ্য বিদায়ী সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.