আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

আইসিবি ব্যর্থ, পুনর্গঠন শুরু এবছরই: বিএসইসি প্রধান

অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এবছরই আইসিবির পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে বলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানিয়েছেন।

পুঁজিবাজার বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, “সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) তাদের যে কাজ, সেটা তারা সঠিকভাবে করতে পারছে না। এ কারণে সরকারের নির্দেশে আইসিবিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“তথ্য সংগ্রহের পর আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে আইসিবি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন সরকার থেকে আইসিবিকে আরও তহবিল দেওয়া হবে। তার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আইসিবির যে ভুমিকা, সেটা রাখতে পারবে।“

অধ্যাপক শিবলী বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিবাজারই হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের মূল উত্স। পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়ে সেই সব দেশগুলোতে বড়, ছোট ও মাঝারি- সব ধরনের ব্যবসা হয়। সে সব দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ জনগণই মূল টাকা দেয় আর তখনই অর্থনীতি গতিশীল হয়। আমরা সেই স্বপ্নই দেখছি। আমরা চাই আমাদের পুঁজিবাজার উন্নত দেশগুলোর পুঁজিবাজারের মত হবে।

“সেজন্য আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে বন্ডের সরবরাহ বাড়ানো শুরু করেছি। এর ফলে সামনে দেশের পুঁজিবাজারের আকার অনেক বড় হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ অনেক বেড়ে যাবে।কোনো কোম্পানির শেয়ারের মালিকের ভোটাধিকার থাকে, শেয়ারের মালিক লভ্যাংশ পান। অন্যদিকে বন্ডের মাধ্যমে সাধারণত কোম্পানি ঋণ নিয়ে থাকে। ফলে যারা বন্ড কিনেন তারা নিয়মিত সুদ পেয়ে থাকেন।

কোম্পানির শেয়ারে প্রতিবছর লভ্যাংশের নিশ্চয়তা না থাকলেও বন্ডে প্রতিবছর সুদ পাওয়া যায়। যেকারণে অনেক বিনিয়োগকারী বন্ড বেছে নেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, তার নেতৃত্বে নতুন কমিশন সাড়ে তিন মাসে মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেট বন্ড পার্পেচুয়াল বন্ড, ৮৫০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ড, একটি সিমেন্ট কারখানার জন্য ১০০ কোটি টাকার লোকাল বন্ড এবং ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ইন্টারন্যাশনাল বন্ড ইস্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দৈনিক ৩ হাজার কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

শিবলী বলেন, পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিত করতে এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই এমন কোম্পানির ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। অনেক বোর্ড ভেঙেও দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকদের কার্যক্রমও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

“মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর কিছু কোম্পানি ঠিকমতো কাজ করছে না; হঠাৎ কোম্পানি করে বন্ধ করে চলে যাচ্ছে; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করছে, সেসব কোম্পানির বোর্ডও ভেঙে দিতে হতে পারে। সেখানে আমরা স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব। আইনের মধ্যে থেকেই এগুলো করা হবে।“

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেইন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম।

বিএমবিএ সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান ও সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেলও বক্তব্য দেন।

বিএমবিএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন; সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.