আলোচিত সংবাদ
সত্যের কথা বলে

অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দিতে চায় এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স

ভালো মুনাফার পরও তালিকাভুক্তির প্রথম বছরেই বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া এক্সপ্রেস ইন্সুরেন্সের কর্তৃপক্ষ এখন অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দিতে চায়। এজন্য কোম্পানিটি একটি পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানিয়েছে।

গেল সোমবার সন্ধ্যায় এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের সমাপ্ত বছরের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। অথচ বছরটিতে কোম্পানিটি ভালো মুনাফা করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ কারণে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়।

বিএসইসির তলব করায় আজ মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে হাজির হয় এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিএসইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণার জন্য তারা একটি অডিট ফার্মকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী নভেম্বরে অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে।

বিএসইসিকে দেয়া কথা অনুযায়ী এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করলে সেটা হবে নতুন ইতিহাস। কারণ আজ পর্যন্ত কোনো বীমা কোম্পানি অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের নো ডিভিডেন্ড ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে আজ কমিশনে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগির তারা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর দেবেন।’

চলতি বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স সোমবার সন্ধ্যায় ২০১৯ সালের সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানায়। আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

অথচ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩১ পয়সা মুনাফা করেছে বলে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৪ পয়সা।

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন করে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে এই বীমা কোম্পানিটি আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ টাকা করে শেয়ার বিক্রি করে। এরপর গত ২৪ আগস্ট থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়।

লেনদেনের শুরুর দিন থেকেই এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম বাড়তে থাকে। সোমবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩১ টাকা ৩০ পয়সায় উঠেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.