| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

সুমন হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মচনে অনুসন্ধানে সিআইডি

রিপোর্টারের নামঃ Super Admin
  • আপডেট টাইম : 13-08-2025 ইং
  • 363236 বার পঠিত
সুমন হত্যাকান্ডের রহস্য  উম্মচনে অনুসন্ধানে  সিআইডি
ছবির ক্যাপশন: সুমন হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মচনে অনুসন্ধানে সিআইডি

 অনুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ

২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নাজ ফার্মার সামনে ফুটপাতে  সুমনকে ছুরিঘাকাত করে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা।

এ পরে সুমনের স্ত্রী প্রতিমা রানি বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার দ্বায়িত্বভার যায় সিআইডির ওপর।

সিআইডির তদন্ত শেষে রিপোর্টে সুমনকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়।

এর কিছু দিন পরে তদন্তের দ্বায়িত্ব পাই ডিবি। ডিবি সুমন হত্যার কোন কুলকিনারা পাই না।

বার বার একই জায়গায় হোচট খাই তারা। এর পরে সুমনের মামা তৎকালীন আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে মামলাটি তুলে নিতে বলে প্রতিমাকে।

তদন্তে আরও যানা যায়, হরিদাস পাল তৎকালীন  সৈরাচার আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ঢাকার এয়ারপোর্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে এবং এয়ারপোর্টে দারোয়ানের চাকুরী নেন। 

৩ ফেব্রুয়ারী ঘটনার নাটকীয় ছক তৈরি করে সুমনের মামা হরিদাস পাল।

তার কথামত  সুমনের নাটকীয় হত্যাকান্ডের জড়িত হয়  সবুজ পাল,মিঠুন পাল,ইমরান হোসেন, শ্যামল রায় ও আরিফ তালুকদার। 

ঘটনার রাতে সুমন চাঁদঘর  রেস্টুরেন্ট থেকে ফেরার পথে  বাড্ডা এলকায় পৌছালে রিক্সায় আসা তিনজন লোক তার ওপর হামলা করে এবং সুমনকে ছুরিকাঘাত করে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিন পর সুমনের মৃত্যু হয়।

তারপরই ঘটে বিপত্তি।  লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তারা সুৃমনকে সরিয়ে ফেলে অন্য একটি লাশ পাঠিয়ে দেয় গ্রামে।

হাসপাতাল সূত্রে জান যায়, সুমনের শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে মেডিসিন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারী সকালে সুমনকে মৃত দেখিয়ে প্রতিমাকে ধোঁকা দিয়ে তাকে সরিয়ে ফেলা হয়।

সুমনের মত দেখতে একটি বেওয়ারিশ লাশকে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামে। লাশ গ্রামে নেয়ার পথে গাড়ি থামলে সকলে নাস্তা করতে চলে যায়।

তখন সবুজ পাল গাড়িতে থাকা প্রতিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে জানায়।

সুমনের মামা হরিদাস পালের কথা প্রতিমাকে লাশ দেখতে দেয় নি সুমনের পরিবার।

প্রতিমা লাশ দেখার জন্য জোর করলে মুখ না দেখিয়ে শরীরের কিছু অংশ দেখায়। তখনই প্রতিমার সন্দেহ হয়।

কারণ, সুমনের শরিরের সাথে এ লাশের কোন মিল নেই। 

পরে প্রতিমা তার শাশুড়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোর এতো জেনে কাজ নেই।

যা দেখছিস তাই যথেষ্ট। লাশ পোড়ানোর পরে হরিদাস পাল প্রতিমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

সেই সাথে সবুজ পালও প্রতিমাকে একাধিকবার ধর্ষণের হুমকি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এ অবস্থায় কোন উপায় না পেয়ে শ্রাদ্ধের কাজ শেষ করে বাড্ডা থানায় একটি এজহার দায়ের করেন।

মামলা দায়ের করার কিছু দিন পর প্রতিমাকে তার ঘর থেকে বের করে দেয় কিলার হরিদাস পাল ও সুমনের পরিবার।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, সুমনকে মৃত বলে উল্লেখ করা হলেও ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে  একটি নম্বর থেকে (০১৭০৬৫১৪২২৭) প্রতিমাকে কল দিয়ে সুমন তার পরিচয় দেয়।

প্রতিমা তার কন্ঠ শুনে বুঝতে পারে সুমনই তাকে কল দিয়েছে।

তারপরে যখন বিষয়টি সকলে জানতে পারে তখন সুমন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

 প্রতিমা ও সুমনের কথোপকথনের  কল রেকর্ড নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যায় এবং তদন্তের দ্বায়িত্বে থাকা ডিবি এসআই রিপনকে বিষয়টি জানালে কোন গুরুত্ব  দেই নি।

সর্ব শেষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখ রাত ১.৫১ মিনিটে  অন্য আর একটি নাম্বার (০১৭৮৬১৪৮৩১০) থেকে কল দেয় প্রতিমাকে। পরে প্রতিমা ও কলটিও রেকর্ড করে রাখে।

পরের দিন ভোলার তজুমুদ্দিন থানায় জিডি করে সিমের তথ্য বের করে। সেই সূত্র ধরে দেখা যায় ১ম কলটি আসে ভোলার চরফ্যাশন থেকে এবং অপরটি আসে সিলেটের ওামানিনগর এলাকা থেকে।

সেই কল রেকর্ড এর সূত্র ধরে "চ্যানেল নিউজ ২১" এর অনুসন্ধানী টিম অনুসন্ধান শুরু করে।

 ১ম অনুসন্ধান শুরু করা হয় সিলেটের ওসমানী নগর থানার কয়েকটি এলাকায়।

ওসনানী নগর থানার কাশিপাড়া এলাকায় অনুসন্ধান করে দেখা যায় সুমন এ এলকায় থাকে বলে জানায় স্থানীয়রা।

সেখানে সুমন তার নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে সজল পাল ওরফে কাঞ্চন পাল পরিচয় দিয়ে চলাচল করছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সুমন ওরফে কাঞ্চন পাল সৈরাচার সরকারের অধিনস্থ চেয়ারম্যান অরুনাদয় পাল ঝলকের দোকান দেখাশোনার দ্বায়িত্ব পায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,   হরিদাস পাল ও চেয়ারম্যান ঝলক পরস্পর আত্নীয়।

এ বিষয়ে কাশিপাড়া এলকার স্থানীয় কয়েকজন বলেন,সুমন ওরফে কাঞ্চন পাল এ এলকায় দীর্ঘ দিন ধরে বসবস করছে।

বিকাশ দেব নামের স্থানীয় একজন জানান সুৃমনকে আমরা এ এলাকায় দেখেছি। সে এ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সে কি ভাবে মারা যায়? কল লিস্টের সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান চালায় মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি স্থানে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সুমন তার বন্ধুর সাথে ওসমানী নগর এলাকা থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় চলে আসে। তার বন্ধুর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করে নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সুমনের মামা হরিদাস পাল প্রতিমাকে নানা  ভাবে কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।

প্রতিমা তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হরিদাস পাল এই কর্ম কান্ড করতে থাকে।

এলাকাবাসীর দাবী সুমন কোথায় আছে জানতে হলে হরিদাস পালকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুমন হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোচিত সংবাদ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় এলিট ডিজাইন