| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কৃষককে আঃলীগ নেতা বানিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্টারের নামঃ Super Admin
  • আপডেট টাইম : 17-09-2025 ইং
  • 326555 বার পঠিত
কৃষককে আঃলীগ নেতা বানিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
ছবির ক্যাপশন: পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আনোয়ার সাঈদ তিতু, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলায় ওয়ারেন্টের কথা বলে মোঃ আবু বক্কর (৫০) নামের এক কৃষককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে থানায় যায় পুলিশ।

পরে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়ে জামায়াতের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাজিবপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। 

গত শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিবেরডাঙ্গী দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও উঠেছে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। 

গ্রেফতার হওয়া ভুক্তিভোগী কৃষক মোঃ আবু বক্কর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিবেরডাঙ্গী এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিতপত্র পাঠ করেন ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ আবু বক্করের ভাতিজা শরিফ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাচা আবু বক্করের নিজ বাড়িতে হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে রাজিবপুর থানা পুলিশের একটি দল।

এ সময় জিজ্ঞাসা করলে ওই পুলিশ সদস্যরা তার চাচাকে বলেন, আপনার নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে।

এই কথা বলে চাচা কৃষক মোঃ আবু বক্করকে গাড়িতে করে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পরে থানায় গিয়ে জানতে পান, তার চাচা আবু বক্করকে রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়ে রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

তিনি আর বলেন, আমার চাচা একজন কৃষক, আমরা ও আমার চাচা মোঃ আবু বক্কর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই।

কে বা কারা ষড়যন্ত্র করে পুলিশকে দিয়ে আমার চাচাকে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

এই মিথ্যা মামলার  প্রতিবাদ জানান ও সরকার কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগির স্ত্রী সুখিতন নেছা বলেন, ‘আমার স্বামী কোনো দল করে না। কৃষি কাজ করে খাই।

তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগীর ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া অভিযোগ করেন বলেন, ‘আমার বাবা কোনো রাজনীতি করেনি।

তারপরও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’ 

স্থানীয় জাহাঙ্গীর, আব্দুল করিম বলেন, ‘আবু বক্কর একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। এক সঙ্গে কৃষি কাজ করেন ও তিনি মাছও চাষ করে জীবন চালান।

কৃষি কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিপ্ত দেখেননি তারা।

রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রশাসনের দুরভিসন্ধি।

ওই এলাকায় হয়তো কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল, প্রশাসন টাকা পয়সা খেয়ে এই কাজ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও।

আমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে নাম নেই কোথাও।

উনি যে আওয়ামী লীগ করে পুলিশ জানতে পারি।

কোনো দিন আওয়ামী লীগের কোনো প্রোগ্রামে দেখিনি।

গ্রেফতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ বলেন, আমি আবু বক্করকে চিনি না।

এটা দৃষ্টিকটুর। আমরাতো তার নামে মামলা দেইনি।

আমরা পুলিশকে বার বার বলি, অজ্ঞাতনামা কোনো আসামীকে যদি গ্রেফতার করতে চান, তাহলে আমাদেরকে জানাতে হবে। বারবার বলার পরও পুলিশ এটা কিভাবে করে।

এর আগেও মুকুল নামের এক ব্যক্তিও পুলিশ আটক করছিল বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদশক (এসআই) মোঃ আতিকুর জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা একটু পরে কথা বলবেন বলে পাশ কাটিয়ে যান তিনি।  

রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে (আবু বক্কর) গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ মামলার তথ্য প্রমাণ মুখ জবানি বলছেন বাদি পক্ষ।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কে, তা জানি না।

তিনি আরও বলেন, যদি তিনি (আবু বক্কর) রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না থাকে, তাহলে তাকে চার্টশীট থেকে বাদ দেওয়া হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোচিত সংবাদ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় এলিট ডিজাইন